সর্বশেষ সংবাদ
Home / রাজনীতি / কেন আমরা সবাই মরার আগে মরে যাচ্ছি: ফখরুল

কেন আমরা সবাই মরার আগে মরে যাচ্ছি: ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক :

বাংলাদেশে এখন সবাই আওয়ামী লীগের সমালোচনার সাহস হারিয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, “আজকাল টেলিভিশনের টক শোগুলোতে তথাকথিত বুদ্ধিজীবী যান, তারা ওই জিনিসগুলো বেশি বলতে থাকেন কোথাও বিএনপি ভুল করল, কোথায় ঐক্যফ্রন্ট ভুল করল? আর আওয়ামী লীগ যে ভুল নয়, ইচ্ছাকৃতভাবে রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দিল, সে বিষয়ে কথা বলার সাহস কারও নেই।”

জাতীয় প্রেস ক্লাবে শনিবার ‘আওয়াজ’ নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে ‘সহিংসতা ও নারী : বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে একথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে দেশে ভয়ের পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছে বলে দাবি করে আসছেন বিএনপি নেতারা। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর তাদের এই সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে।

ফখরুল বলেন, “যখন ফ্যাসিবাদ চলে, তখন সর্বপ্রথম কাজটা কী করে থাকে? একটা ভয় সৃষ্টি করা, ত্রাস সৃষ্টি করা, সমস্ত জনগণের মধ্যে একটা ভীতি ছড়িয়ে দেওয়া। এই ভীতিতে বাসে বসেও কেউ কথা বলতে চান না, রেস্টুরেন্টে বসেও কেউ কথা বলতে চান না। এভাবে তারা একটা ভয়ভীতি ছড়িয়ে দিয়েছে যে এখন আর কেউ কথাই বলতে চায় না।

“এটা দিয়ে কোনোদিন একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালিত হতে পারে না। আজকে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। এটা শুধু আমাদের কথা নয়, দেশের আপামর জনসাধারণ বলছে। ইকনোমিস্টের মতো পত্রিকা ক্যাপশন করছে, গণতন্ত্রের মৃত্যুর সংবাদ দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ গোটা পৃথিবীর মিডিয়া জানে, বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে গেছে।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “কেন আমরা মরার আগে মরে যাচ্ছি? কেন আমরা ভয়ে ভীত হয়ে, সন্ত্রস্ত হয়ে সবাই ঘরে ঢুকে থাকার চেষ্টা করছি? ঘরে ঢুকে থেকে তো আমরা বাঁচব না।

“অনেকে মনে করেন, এখন তো বিএনপিকে ধরছে, ঐক্যফ্রন্টকে ধরছে, ওদেরই ধরুক, আমরা বাঁচব। এবার তো কেউই বাঁচল না, কেউ বাঁচে না। সারাদেশে আসামির সংখ্যা এখন ২৭ লাখ, মামলার সংখ্যা ৯৮ হাজার।”

এই পরিস্থিতিতে সবাইকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, “এই নির্বাচনে একটা বড় কাজ হয়েছে আওয়ামী লীগ জনগণের কাছ থেকে চিরদিনের জন্য চলে গেছে। জনগণের জয় হয়েছে, তারা পরাজিত হয়েছে।

“আপনারা ভয় পাবেন না, সারাদেশের মানুষ আপনাদের সঙ্গে আছে। আমাদের আফরোজা আপা (মির্জা আব্বাসের স্ত্রী) আমাদের সামনে একটা অনুপ্রেরণা। আমরা দেখেছি যে নির্বাচনের সময়ে অনেক বাঘা বাঘা পুরুষরা কেউ বেরুতে পারেননি, তখন কিন্তু তিনি লড়াই করে চলেছেন।”

অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধে ‘আওয়াজ’র সাধারণ সম্পাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন অধ্যাপক শাহিদা রফিক নারী নির্যাতনের অতীত ও বর্তমান পরিসংখ্যান তুলে ধরে এর ব্যাপকতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার প্রবন্ধে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে একটি আলাদা মন্ত্রণালয় স্থাপন, আইনের কঠোর প্রয়োগ, জাতীয় কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়নসহ ১১ দফা সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন।

আওয়াজের সভানেত্রী বিএনপির সহসভাপতি সেলিমা রহমানের সভাপতিত্বে ও বিলকিস ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাজমেরী এস ইসলাম, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নুরী আরা সাফা, মহিলা দলের নেত্রী রাশেদা বেগম হীরা, সেলিনা রউফ চৌধুরী, লায়লা বেগম, রাশেদা ওয়াহিদ মুক্তা, সাদিয়া হক, রাফিকা আফরোজা, নুরজাহান মাহবুব, অধ্যাপক মো. লুতফর রহমান, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, মোকছেদুর রহমান আবির, সম্প্রতি নির্যাতিত এক কিশোরীর বাবা রকি আলম।

নারীর উপর সহিংসতা প্রসঙ্গ টেনে ফখরুল বলেন, “এখন একজন বলেছেন, রাজনীতির বাইরে থেকে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। কে করবে, কে দেখবে, কে বিচার করবে, কে শাস্তি দেবে? কারা বিচারের আওতায় নিয়ে আসবে।

“একজন তার ৯ বছরের মেয়ে ধর্ষিত হয়েছে, তার মামলা করতে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় টাকা দিতে হচ্ছে। কোথায় যাবেন আপনারা, সাধারণ মানুষের যাওয়ার কোথাও জায়গা নেই।”

ভোটের পর নির্বাচনী সহিংসতায় নোয়াখালীর সুর্বণচরে পারুল বেগমসহ নোয়াখালীর কবিরহাট, ঢাকার ফতুল্লা ও খুলনায় নারী নির্যাতনের ঘটনার তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে, অন্যায়কে পরাজিত করতে হবে, ন্যায়কে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।”

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক কারণে আটকে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগও করেন ফখরুল।

ঢাকা-৯ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস নির্বাচনের সময়ে তার উপর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীর হামলার ঘটনা তুলে ধরে বলেন, “আমার উপর ১০ বার হামলা হয়েছে। আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আমাদের কর্মীদের চুলের মুঠি ধরে নির্যাতন করেছে, অশালীন আচরণ করেছে, গায়ে চাপাতিসহ বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে, যেটা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। প্রশাসনের সহায়তায় এইসব হামলা হয়েছে।

“যেখানে গণতন্ত্র নেই, স্বাধীনতা নেই, সেখানে এই ধরনের হামলা হবে, নারী নির্যাতন হবে, গণসহিংসতা, গণসন্ত্রাস, গণধর্ষণের ঘটনা ঘটবে।”

আফরোজা বলেন, “আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কর্মীরা এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করব, প্রতিবাদ করে যাবই। ভাই-বোনদের আমি বলতে চাই, কেউ ভয় পাবেন না, হতাশ হবেন না, সেখানে অন্যায় দেখবেন, সেখানেই প্রতিবাদের আওয়াজ তুলন, শক্তভাবে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করুন।”

সেলিমা রহমান নতুন এই নারী সংগঠন গড়ে তোলার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “গত একবছর ধরে নারীর উপর সহিংসতা ভয়াবহ আকারে বেড়ে গেছে। যেসব নারী সংগঠন আছে, বর্তমানে কারও কাছ থেকে কোনো আওয়াজ নেই, কোনো কথা নেই, কোনো প্রতিবাদ নেই। ওরা চিন্তা করছে, আওয়াজ তুললে, কথা বললে বর্তমান সরকারের রোষানলে পড়তে হবে।

“তখন আমরা চিন্তা করলাম দলমত নির্বিশেষে আমরা আওয়াজ তুলব সব ধরনের অন্যায়ের প্রতিবাদে। এটা আমাদের প্রথম অনুষ্ঠান। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় এত নির্যাতন ও অন্যায় হচ্ছে গণতন্ত্রহীনতা, বিচারহীনতার কারণে।

“যখন রাষ্ট্রযন্ত্র দূর্বল হয়ে পড়ে, তখন সেই রাষ্ট্রযন্ত্রের সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যায়। ক্ষমতাসীনদের লোভ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার দম্ভে আজকে বাংলাদেশে সেটিই হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে সোচ্চার হতে হবে।”

ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া ফখরুল বলেন, “নৈতিক কোনো বৈধতা নেই এই সংসদ বসার। কারণ তারা নির্বাচিত নয়। নির্বাচনের নামে একটা সম্পূর্ণ একটি প্রহসন হয়েছে। আমি যেটাকে মনে করি একটা নিষ্ঠুর প্রহসন হয়েছে গোটা জাতির প্রতি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

x

Check Also

কাদের সাহেবের দৌড়াদোড়ি কেবল ফটোসেশনেই সীমাবদ্ধ’

অনলাইন ডেস্ক : মঙ্গলবার নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ...

Shares