সর্বশেষ সংবাদ
Home / অপরাধ / লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় রোগীর মৃত্যু: চিকিৎসক ব্যস্ত প্রাইভেট ক্লিনিক নিয়ে

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় রোগীর মৃত্যু: চিকিৎসক ব্যস্ত প্রাইভেট ক্লিনিক নিয়ে

স্টাফ রিপোর্টার :

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় মো. বাবুল হোসেন নামের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর ১২ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময়ে সদর হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক (কনসালটেন্ট কার্ডিওলোজি) হাসপাতালে ছিলেন না।

তিনি প্রাইভেট ক্লিনিকে ব্যস্ত ছিলেন। স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক,নিহত রোগীর স্বজনের এমন অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে । একই সঙ্গে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অন্যান্য রোগীরাও ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

সরেজমিন গিয়ে দুপুর দেড়টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে দেখা যায়, নিহতের স্বজনদের বুক ফাটা আহাজারীতে হাসপাতালের আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

স্বজনরা জানায়, বুকে ব্যাথা নিয়ে দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি হন সাহাপুর এলাকার বাবুল হোসেন । শুরুতে মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফ তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হৃদরোগ বিভাগের কনসালটেন্ট ভবানী প্রসাদের কাছে পাঠান । কিন্তু তিনি এ সময় হাসপাতালে ছিলেন না । ফোন করা হলে জরুরি কাজে বাইরে আছেন বলে জানান ভবানী প্রসাদ । পরে সিভিল সার্জনকে ফোন দেয়া হলে তিনি অন্য চিকিৎসকে পাঠান । তবে এর আগেই মৃত্যু হয় বাবুল হোসেনের।

চিকিৎসক ডা. ভবানী প্রসাদ রায় ক্লিনিকে ব্যাস্ততার কথা স্বীকার না করলে ও , ব্যক্তিগত কাজে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য হাসপাতালের বাইরে গেছেন বলে স্বীকার করেন । তবে রোগীর অবস্থা খারাপ থাকায় মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে সঠিক ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেন, অন্যান্য সেবা গ্রহিতারাও । হাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে বরং তিনি তার প্রাইভেট ক্লিনিকে (শুভ হার্ট, মেডিসিন এন্ড কনসালটেশন সেন্টার) যেতে রোগীদের প্রভাবিত করেন।

এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর ১ টা ৫৭ মিনিটে তার প্রাইভেট ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায় তিনি ব্যস্ত রয়েছেন রোগী দেখা কাগজপত্র (ব্যবস্থাপত্র) ঠিক করতে। ক্যামেরা দেখে তিনি সরিয়ে ফেলেন কাগজপত্র। এসময় সরকারি হাসপাতালে না থেকে প্রাইভেট ক্লিনিকে কি করছেন জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। এক পর্যায়ে কিছু না বলেই বের হয়ে যান তিনি।

এদিকে চিকিৎসা অবহেলায় রোগী মৃত্যুর বিষয়টি কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে সিভিল সার্জন ডা. মোস্তফা খালেদ আহমদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কোন মৃত্যুই আমাদের কাম্য নয়, ঘটনার সময়ে দায়িত্বরত চিকিৎসককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

তবে সাধারণ জনগন মনে করেন , যে সব চিকিৎসক রোগীদের চিকিৎসা না দিয়ে বরং তাদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি এবং রমরমা বানিজ্যে মেতে উঠে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনালে সরকার ও প্রশাসনের ভাবমুতি উজ্জল হবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

x

Check Also

লক্ষ্মীপুরের কোমলনগরে আগুনে পুড়ে ছাই ২টি সিএনজি ও ৪টি দোকান

কমলনগর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে মালামালসহ চারটি ...

Shares